Sunday, September 2, 2012

দাঙ্গায়, দাঙ্গার আগে ও পরে নিরবতা কি আসলেই সমাধান দেয়?

by Mahbub Morshed on Sunday, February 12, 2012 at 8:59pm
শুক্রবার (১০/২/২০১২) বিকাল চারটায় আমাকে ফোন দেন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য। ঘটনাচক্রে তিনি আমার পরিচিত।
বললেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটতেছে কিন্তু আপনারা নিউজ করতেছেন না কেন?
আমি বললাম, কিছু তো জানি না। কী ঘটছে?
উনি বললেন, হাটহাজারি রণক্ষেত্র। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে। কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। ভাই বিডিআর (বিজিবি) নামানো লাগবে। নিউজ না হলে তো বিডিআর নামবে না।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কত মানুষ?
আমরা ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেটেঁ আসছি। পুরাটাই মানুষে ভরা। আমরা একদিকে সরাই, অন্যদিকে মানুষ জমে।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণও শুনলাম তার কাছে। ফোন রেখে সাংবাদিক-সূত্রে খবর যাচাইয়ের চেষ্টা করলাম। পরপর কয়েকটা কলে কোনো খবর মিললো না। একজন বললো, হাটহাজারিতে সড়ক অবরোধ হয়েছে। বিকাল ৫ টার দিকে স্পষ্ট হলো, হাটহাজারিতে মারাত্মক কিছু একটা ঘটেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ/দাঙ্গা/হামলা।
আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম কোনো টিভি চ্যানেল বা অনলাইন মিডিয়া এ খবর দেয় কি না। কেউ দিল না। অনেক অপেক্ষার পর বাংলা নিউজ প্রথম একটি ক্লু প্রকাশ করলো।
10 Feb 2012   05:49:34 PM   Friday BdST
হাটহাজারীতে অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাটসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো উপজেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।

উত্তেজনা নিরসনে হাটহাজারীতে রয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিন। তিনি হাটহাজারীর বিভিন্ন স্পটে গেলে উত্তেজিত লোকজনের তোপের মুখে পড়েন।
এর আগে শুক্রবার সকালে উত্তেজনা নিরসনের জন্য হাটহাজারীতে এসে ক্ষুদ্ধ জনসাধারণের ধাওয়ার মুখে পড়েন স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সকাল থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১২

এ খবরের পর বিডিনিউজের একটি খবর এলো।

মন্দির ভাংচুরের পর ১৪৪ ধারা হাটহাজারীতে


Fri, Feb 10th, 2012 6:26 pm BdST

চট্টগ্রাম, ফেব্রুয়ারি ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কয়েকটি মন্দির ভাংচুরের পর উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাটহাজারী উপজেলা সদর ও নন্দীরহাটে কয়েকটি মন্দির ভাংচুর এবং আগুন দেওয়ায় জামায়াত-শিবিরের ইন্ধন রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালের একটি ঘটনা থেকে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। মন্দিরের পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিন্দু স¤প্রদায়ের নেতারা পরিস্থিতি এত দূর গড়ানোর জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

হিন্দুরা বলছেন, একটি গুজবের ওপর ভিত্তি করে মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। অন্যদিকে মসজিদে হামলার অভিযোগ তুলে এর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে দিনভর হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে রাখে এক দল লোক।


দিনভর উত্তেজনার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমীন, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল শুক্রবার দুপুরের পর হাটহাজারী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

আফসারুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, “একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাটহাজারীর বিভিন্ন পাড়ায় মন্দির-মসজিদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

১৪৪ ধারা জারির ফলে কোথাও বেশি মানুষ জড়ো হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনার শুরু হয় বৃহস্পতিবার। সকালে নন্দীর হাট এলাকায় লোকনাথ সেবাশ্রম মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। এই উপলক্ষে হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন ও মন্দিরের ভক্তরা একটি শোভাযাত্রা বের করে। এতে উৎসবের অংশ হিসেবে মাইকের পাশাপাশি ঢোলও বাজানো হচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, শোভাযাত্রা স্থানীয় একটি মসজিদ অতিক্রমের সময় মসজিদের মুসল্লিরা ঢোল বাজাতে নিষেধ করে। এক পর্যায়ে মিছিলের পেছন দিকে ঢিল ছোড়া হয়। তখন শোভাযাত্রা থেকে পাল্টা একটি ঢিল ছুড়লে তর্কাতর্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এরপর সমস্যা সমাধানে পুলিশ দুই স¤প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক বসে। তবে ওই বৈঠক শুরু করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কালক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মুসলমান স¤প্রদায়ের এক দল বলে, বৈঠকের স্থান হবে মসজিদ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এতে রাজি হলে সন্ধ্যায় এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৈঠক চলাকালেই একদল দুবৃর্ত্ত লোকনাথ মন্দিরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। মন্দিরে আসা বিভিন্ন দর্শনার্থীর সাত-আটটি গাড়িও ভাংচুর করে তারা।

পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অশোক কুমার দেব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালের ঘটনার পর কেউ গিয়ে মসজিদে কাচ ভেঙে দেয়। তারপর এলাকায় গুজব ছড়ানো হয়, হিন্দু স¤প্রদায় মুসলমানদের মসজিদ ভেঙে ফেলছে।

এরপর শুক্রবার সকালে হাটহাজারী এবং আশপাশের এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের জড়ো করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকটি মন্দির ভাংচুর এবং হিন্দুদের দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি শুক্রবার নন্দীরহাট ঘুরে তিনটি মন্দিরে ভাংচুরের চিহ্ন দেখেছেন। এগুলো হলো- শ্রী শ্রী মগদেশ্বরী মায়ের মন্দির, জগন্নাথ বিগ্রহ মন্দির ও লোকনাথ মন্দির। এর মধ্যে মগদেশ্বরী মন্দিরে আগুনও দেওয়া হয়।

এছাড়া হাটহাজারী উপজেলা সদরে কালীবাড়ি মন্দিরেও ভাংচুরের চিহ্ন দেখা গেছে।

হামলা থেকে হিন্দুদের বাঁচাতে গিয়ে আহত দক্ষিণ পাহাড়তলীর সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার জাফর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হামলাকারীরা কেউ এলাকার লোক নয়।”

প্রায় ২০ বছর ধরে কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী জাফরের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী বাজারে হিন্দুদের সোনার দোকানে লুটপাটকারীরাও এলাকার নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, সা¤প্রদায়িক একটি গোষ্ঠী এই ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে। এলাকাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী মেস করে কিংবা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে লজিং থাকে।

মন্দির ভাংচুরের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে অস্থির করতে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালামও।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর জামায়াত-শিবির পরিস্থিতি অস্থির করতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।”

হাটহাজারীর নন্দীরহাট থেকে তিন কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে দুই ছাত্র নিহত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসাটি এই হাটহাজারী এলাকাতেই, যেখানে শিবিরের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

বৃহস্পতিবারের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই এলাকায় যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি বলে মনে করেন সালাম।

শুক্রবার সকাল থেকে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় মুসল্লিরা। হাটহাজারী থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার আগে (চট্টগ্রামের দিকে) দুপুরে সড়কের ওপর জুমার নামাজও পড়া হয়।

সকালে পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নন্দীর হাট গিয়েছিলেন। কিন্তু বিফল হয়ে ফেরেন তিনি।

দুপুরের পর মন্ত্রী আফসারুল আমীন প্রথমে নন্দীরহাট যান। সেখান থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে হেঁটে হাটহাজারী উপজেলা সদরে যান তিনি। পথে তিনি আশেপাশের লোকজনকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে অবরোধ উঠে গেলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

হাটহাজারীতে ৫০০ পুলিশ, চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা টহলে রয়েছে।

হাটহাজারী থানা বিএনপির সভাপতি এস এম ফজলুল হক পরিস্থিতির অবনতির জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রশাসন শুরু থেকে তৎপরত থাকলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না।”

এলাকায় স¤প্রীতি রক্ষায় বিএনপির সব নেতা-কর্মীদের কাজ করতে বলা হয়েছে জানিয়ে ফজলুল বলেন, এখন সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

এদিকে মন্দিরে হামলার পর লোকনাথ আশ্রমের ওই উৎসব আর হচ্ছে না। মন্দির প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এমইউ/এমসি/আরআরডি/এমআই/২৩০৬ ঘ.

বস্তুত, ৫ টায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। ১৪৪ ধারার পর বিজিবি মোতায়েন হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এরপর মিডিয়াগুলো খবর প্রকাশ করেছে।

প্রথমে আমি মনে করেছিলাম, খবর প্রচার বিষয়ে সরকার বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানালেন, আসলে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। মিডিয়াগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ দায়িত্বে নিরবতা পালন করেছে। একজন সাংবাদিকের কাছে আমি জানতে চাইলাম, খবর প্রকাশ করা মিডিয়ার দায়িত্ব। কিন্তু মিডিয়া কেন খবরটি তৎক্ষণাত প্রকাশ করলো না?
উনি বললেন, দাঙ্গার খবরের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে সাংবাদিকরা এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দৈনিক ইনকিলাবের একটি খবর প্রকাশ করেছিল। উস্কানিমূলক সে খবর সারাদেশে দাঙ্গা ছড়িয়ে দিয়েছিল। দাঙ্গার খবর সবসময় সাবধানতা সহকারে প্রকাশ করতে হয়।
ভেবে দেখলাম, এখানে মিডিয়ার দায়িত্বশীলতার একটি প্রসঙ্গ আছে। শনিবারের ভারতীয় পত্রিকাগুলোও দেখলাম, আশ্চর্যজনক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
মসজিদে ঢিল ছোঁড়ার পর মন্দিরে ভাংচুর এমন খবর প্রচার করলেও সেটি দুই সম্প্রদায়কেই উস্কানি দিতে পারে। দাঙ্গা ছড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু মিডিয়া কি দুই দল লোকের সংঘর্ষ বলেও তাৎক্ষণিক খবর দিতে পারতো না? মিডিয়া দাঙ্গা ছড়াতে দেয়নি সেটা প্রশংসনীয়। কিন্তু যেখানে দাঙ্গা হয়েছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বাধ্য করাতে পারেনি। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক অবরোধ, ভাংচুর ইত্যাদি নির্দোষ শিরোনাম দিলেও সরকার বুঝতো ঘটনা ছড়াবে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫ টার জায়গায় ৩ টায় ১৪৪ ধারা জারি করে বিজিবি মোতায়েন করলেই পরবর্তী ঘটনাবলী এড়ানো যেত।
তবে ঘটনাবলী বলছে, সরকার আন্তরিক হলে মিডিয়ার নিরবতার পরও ঘটনাবলী নিয়ন্ত্রণ করা যেত।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ, ৯/১২/১২ তারিখ দুপুরে জোহরের নামাজের সময় লোকনাথ মন্দিরের একটি কীর্তনের দল মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন মন্দির ও মসজিদের লোকজনের মধ্যে বসচা হয়। কে বা কারা মসজিদের দিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বসে ঘটনা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ মীমাংসায় পুলিশের ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। মীমাংসার সময় একদল লোক লোকনাথ মন্দিরে ভাংচুর চালায়।
পরদিন সকালে খবর রটে যায় যে, গভীর রাতে মসজিদে কেউ ভাংচুর চালিয়েছে। এ খবর উত্তেজনা ছড়াতে সহায়তা করে।
পরিস্থিতি যখন ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠছে তখন স্থানীয় এমপি, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি স্থানীয় ব্যক্তিদের রোষের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন। দুপুরের পর চট্টগ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ঘটনাস্থলে যান।
সঙ্গতকারণেই মনে করার কারণ আছে যে, সরকার হাটহাজারির ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত ছিল। চাইলে জুমার নামাজের আগেই বিজিবি মোতায়েন করতে পারতো। জুমার নামাজের সময় ১৪৪ ধারা জারি করা যেত না। কারণ তাতে নামাজ বিঘ্নিত হতো, ক্ষোভ বাড়তো। কিন্তু নামাজের পরপর ১৪৪ ধারা জারি করা যেত। এমনকি শুক্রবার সকালেই পরিস্থিতি স্তিমিত করা যেত।
প্রশ্ন হলো, সরকার কেন উদ্যোগী হয়নি?
হতে পারে, তারা ইসলামী দল ও গোষ্ঠীগুলোকে আন্ডারএসটিমেট করেছে।
অথবা চেয়েছে,
এমন ঘটনা ঘটুক।
কেননা এমনটি ঘটলে আবারও তারা জামায়াত-শিবির সহ ইসলামী শক্তিগুলোকে দোষারোপ ও কোণঠাসা করতে পারবে।
তৃতীয় কারণটি, উল্লেখ করতে চাই না।
অবশ্যই সেটি ভোট হারানোর ভয়। উন্মত্ত জনতাকে বাধা দিয়ে ভোট হারাতে চায়নি আওয়ামী লীগ।

সরকারের এই উদ্যোগহীনতার কারণে একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও আটটি মন্দিরে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ৫০টি হিন্দু বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে নিউ এজের রিপোর্টটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে হওয়ার সেটি উদ্ধৃত করছি।
Temple set on fire, 3 others vandalised
Font size:
Section 144 clamped on Hathazari upazila

Staff Correspondent . Chittagong
Miscreants set a Hindu temple on fire and vandalised eight others at Nandirhat and Hathazari in Chittagong on Friday.
About 50 houses of Hindus were also allegedly set on fire, vandalised and looted.
The district administration clamped section 144 of the Code of Criminal Procedure on Hathazari upazila banning rallies or processions with effect from 5:00pm on Friday.
At least 50 people, including an assistant superintendent of police, were injured during the trouble.
Leaders of the local Hindu community and affected temples at a meeting Saturday evening failed to decide whether to file a case for the violence.
Most of them refused comments fearing further attacks.
The situation turned violent Thursday evening, when Loknath Sebashram Temple at Nandirhat was vandalised
after a minor clash that took place after some motorbikes ran through a procession of Loknath Sebashram
when it was passing by Hazipara mosque, local sources said.
Imam of the mosque Mohammad Habibullah said the Hindu processionists had assaulted a youth when he asked them to stop beating drums as zohr prayers was on.
‘When we came out after the prayers, some people threw stones at the mosque smashing its windowpanes. Immediately, the administration was informed of
the matter and a meeting was convened in the
mosque after maghrib prayers with the administration, local elite and representatives of Ulama Parishad from Al Jamiatul Ahlia Darul Ulum Muinul Islam madrassah at Hathazari to maintain order,’ he told New Age.
The police and local sources said students of Darul Ulum Muinul Islam madrassah had blocked the Chittagong-Khagrachari Road blaming the Hindu community for the situation.
Friday’s violence began with the attack on the Raksha Kali Mandir at Hathazari and torching the temple after the madrassah students had said their juma prayers on the road.
The miscreants also vandalised seven temples out of eight at Nandirhat, including the Jalakumari Bari Mandir and Jagannath Bigraha Mandir, and Sita Kalibari temple at Hathazari.
Sources also said the attackers also vandalised about 50 houses of Hindu people, including Satya Saha, Sudarshan Chowdhury and Bishwanath Chowdhury, in the locality, said Loknath Sebashram secretary Ashesh Purahit and Satya Saha’s nephew Rana Saha.
Nazrul Islam, duty officer at the Hathazari police station, told New Age that at least 50 persons, including circle ASP Babul Akter and six policemen, were injured during the violence.
Chittagong deputy commissioner Fayez Ahmed told New Age that section 144 was clamped on the entire upazila for an indefinite period with effect from 5:00pm to avert further trouble.
Local lawmaker Anisul Islam Mahmud, also Jatiya Party presidium member, along with local officials visited the area to calm the situation.
He talked to the Hindu community leaders, but none from the other party attended a meeting he convened, local sources said, adding that Anisul Islam himself had come under attack from the troublemakers.
Anisul Islam, however, told New Age in the evening that the situation had calmed.
Asked about the reported attack on him, Anisul said, ‘I ran into a situation like that.’
Chittagong district administrator MA Salam said Bangladesh Jamaat-e-Islami and its student organisation Islami Chhatra Shibir had instigated the attacks.
Chittagong University, some three kilometres
from Nandirhat, was closed on February 8 following a clash between Shibir
and ruling Awami
League-backed student organisation Bangladesh Chhatra League.
Two activists of Shibir were killed in the clash at Chittagong University, known to be a bulwark of Shibir.
The Hindu community leaders said that the attackers were not locals.
The attackers were madrassah students, they
said.
Police superintendent ZA Morshed said 500 policemen and four platoons of Border Guard Bangladesh personnel had been deployed in the area to maintain law and order.
Primary and mass education minister Absarul Amin Chowdhury, who visited the spot after the trouble, told reporters at 6:00pm that the situation was under control adding that security had been beefed up at different temples and minority populated areas.
The central committee of Bangladesh Puja Udjapan Parishad and Dhaka University unit of Loknath Seba Sangha on Friday organised a rally in front of the National Press Club in the capital protesting at the arson attacks on temples in Chittagong.
They demanded immediate arrest and exemplary punishment to the miscreants involved in the crime and reconstruction of the damaged temples.
The rally was also addressed by the parishad chief adviser CR Dutta, general secretary Mangal Ghosh, joint secretary
Nirmal Chatarjee,
organising secretary Rabindranath Basu and Prakash Majumdar, DU unit president of the sangha, chaired by its vice-president Kajal Devnath.

হতে পারে, ৮ তারিখে ছাত্র শিবিরের দুই কর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে এমন ঘটনা ঘটেছে। হতে পারে, শিবির নয়, অন্য কেউ এ ঘটনার জন্য দায়ী। অথবা হতে পারে, এ ঘটনার পেছনে কোনো চক্রান্ত নেই- তাৎক্ষণিকভাবেই ঘটনার জন্ম ও বিস্তৃতি। এটি অসম্ভব কিছু নয়। ঘটনার উৎসটা জানা দরকার।
কিন্তু জানা কী সম্ভব? মিডিয়া যেন হিন্দু-মুসলিম, দাঙ্গা, মন্দির-মসজিদ শব্দগুলো ব্যবহার না করতে পারলেই বাঁচে। শনিবারের পর বরিবারের পত্রিকায় হাটহাজারির ঘটনার উল্লেখ হয়নি বললেই চলে। অথচ, এমন গুরুতর ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। দেশের স্বার্থের ঘটনাবলী জানা ও জানানো দরকার।

মিডিয়া তাৎক্ষণিক খবর দিয়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারলো না। ঘটনা ঘটে যাবার আগে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারলো না। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসার পরও মিডিয়া বিস্তৃত খবর দিতে পারলো না। ঘটনার দুইদিন পরও এ বিষয়ে বিস্তৃত খবর দিচ্ছে না। সরকার, বিরোধী দল কেউ কোনো বিবৃতি দিয়েছে বলেও তো শুনছি না। দাঙ্গা পরবর্তী পদক্ষেপ আসবে কীভাবে?
মিডিয়ার নিরবতা, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সব দেখে মনে হল এর মধ্যে দায়িত্বশীলতা কিছু থাকলেও মূলত কাজ করেছে ভয়। এই ভয় দিয়েই কি ধর্মীয় শক্তিগুলোকে জয় করা যাবে? কীসের সাহসে তাহলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নেমেছে সরকার? নাকি নামেনি মোটেও। স্রেফ রাজনীতিই করছে?

No comments:

Post a Comment