যে সাহিত্য সম্পাদক তার অপছন্দের লেখা ছাপান তিনি আদৌ সাহিত্য সম্পাদকই নন। / ব্রারা ৮.৭.২০১২
ব্রাত্য রাইসুর এই স্টেটাস আজ রাজীব নূর মারফত পাইলাম।
ব্রাত্য রাইসুর উক্তিটা মজার। পৃথিবীতে নাই কোনো বিশুদ্ধ সাহিত্য সম্পাদক। কারণ প্রত্যেক সাহিত্য সম্পাদককেই তার অপছন্দের লেখা ছাপতে হয়।
প্রশ্ন করি, সাহিত্য সম্পাদকের পছন্দ-অপছন্দ দিয়া দৈনিকের সাহিত্য পাতা চলবে কেন? সাহিত্য সম্পাদক একটা দৈনিকের কর্মকর্তা, সাংবাদিক। চাকরিজীবী। সাহিত্য বিষয়ে দৈনিকের একটা সম্পাদকীয় নীতি থাকে সেই নীতি অবলম্বন কইরা সাহিত্য-সম্পাদককে কাজ করতে হয়। এইখানে ব্রাত্য রাইসু, জাফর আহমেদ রাশেদ বা আলীম আজিজের সাহিত্য রুচি কোনো বিষয়? চাকরি করবেন, বেতন নিবেন আবার নিজের পছন্দ-অপছন্দ ফলাইবেন এইটা কেমন কথা? নিজের পছন্দ অনুযায়ী লেখা ছাপতে হইলে নিজে পত্রিকা বাইর করা উচিত।
আমি দৈনিকে কাজ করি। এ পর্যন্ত যে কয়টা দৈনিকে কাজ করছি তাতে সাহিত্য পাতা জিনিশটা কেমনে চলে তা বোঝার চেষ্টা করছি। সাহিত্য পাতা কেন বাইর হয় তা বুঝার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ বাদে অন্য জায়গা থিকা যে দৈনিক বাইর হয় সেইখানে সাহিত্যপাতা বইলা এইরকম জিনিশ নাই। গল্প-কবিতা ছাপা হওয়ার সুযোগ সেইখানে নাই বললেই চলে। সাহিত্য পাতা সেইখানে মূলত, ১. সাহিত্যিকদের খবর দেয় ২. বইয়ের খবর দেয় ৩. বইয়ের প্রিভিউ-রিভিউ ছাপে ৪. বই বেচাবিক্রির খবর দেয় ৫. সাহিত্যিকদের ইন্টারভিউ ছাপে। পাবলিশিং ইন্ডাস্ট্রি ও দৈনিকগুলো ভাল সম্পর্ক রাখে। বইয়ের বাজার সৃষ্টি ও বজায় রাখতে দৈনিকের এই ভূমিকা কাজে লাগে। দৈনিকগুলাও ইন্ডাস্ট্রির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাভবান হয়।
কিন্তু আমাদের দেশে দৈনিকগুলার সাহিত্য পাতা মানে- গল্প কবিতা প্রবন্ধ। সাহিত্য সম্পাদকদের রুচির মাতবরি। কেন এইরকম হইলো? কেন ব্রাত্য রাইসু, জাফর আহমেদ রাশেদ ও আলীম আজিজদের এই রমরমা? আসলে কী দৈনিকগুলা এই সাহিত্য ব্যক্তিত্বদের পছন্দ অনুসারে সাহিত্য গড়ে উঠুক সেইটা চায়? এদের পছন্দ সই সাহিত্য ছাইপা দৈনিকগুলার লাভ কী? সাহিত্যের উন্নতি ঘটবে? বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে? দৈনিকের বিক্রি বাড়বে?
কাজের সূত্রে ব্যাপারগুলা আমি বুঝার চেষ্টা করছি কিছুটা।
যা বুঝছি তা এইরকম :১. দেশে যেহেতু সাহিত্যপত্রিকা নাই দৈনিক পত্রিকাগুলা সাহিত্যের প্রতি একপ্রকার দায় বোধ করে সাহিত্যপাতা প্রকাশ করে। গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ ছাইপা সাহিত্যের কৃচ্ছ্রতাসাধন করে।
২. পরবর্তীকালে সাহিত্য-পাতার সঙ্গে সাহিত্যিক-লেখকদের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দৈনিকগুলো বিদ্বৎ সমাজ/নাগরিক সমাজের একটি অংশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়নের উপায় খুঁজে পায়। ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল না হইলেও এতে সামাজিক স্বার্থ হাসিল হয়।
৩. কিছু দৈনিক মনে করে, সাহিত্য পাতাকে পাঠকপ্রিয় করা সম্ভব। এবং এর মধ্য দিয়া দৈনিকের সার্কুলেশনে সাহিত্যমনা পাঠক যুক্ত হতে পারে।
৪. যাদের প্রকাশনা ও দৈনিক উভয়ের বিজনেস তারা সাহিত্য পাতার মাধ্যমে নিজের প্রোডাক্টের প্রসার নিশ্চিত করেন।
.............
কিন্তু সাহিত্য সম্পাদকরা সাহিত্যপাতায় চাকরি কইরা কত কিছুই না করেন। গোষ্ঠী তোষণ গোষ্ঠী পালন থেকে শুরু করে কিছুই বাদ রাখেন না।.............
এইগুলা স্রেফ পদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম।
by Mahbub Morshed on Tuesday, July 10, 2012 at 3:22pm
No comments:
Post a Comment