Friday, August 3, 2012

জনপ্রিয় সাহিত্য, বাজারি সাহিত্য, সিরিয়াস সাহিত্য

ফোন ভাইব্রেশন মোডে রাখা। মধ্যরাতে বন্ধু ফোন দিয়েছিলেন, টের পাইনি। দেখলাম রাত একটায়। জরুরি কোনো ব্যাপার মনে করে কলব্যাক করলাম। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা। আমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তার, আমার লেখালেখির প্রতি পক্ষপাতও কখনো লুকিয়েছেন বলে শুনিনি। পরিচয়ের শুরুর দিকে নিজের সংগ্রহ থেকে অমিয়ভূষণ মজুমদারের ৬/৭টি বই দিয়েছিলেন আমাকে। ফোন ধরেই বললেন, তোমাকে কঠিন কিছু কথা বলবো, মন দিয়ে শুনবে।
বলেন।
তুমি কী চাচ্ছ বলো তো? বাজারি সাহিত্যের প্রতি তোমার এই পক্ষপাত কেন?
বন্ধু হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমার ‌'গুডবাই, মায়েস্ত্রো'নোটটি পড়েছেন। কিছুটা বিরক্ত, কিন্তু পছন্দ করেন বলে আমার কাছেই বিহিত চাইছেন। বললেন,
সাহিত্য দুই প্রকার। বাজারি সাহিত্য ও সিরিয়াস সাহিত্য। এই বিভাজনটা নিয়ে তোমার কোনো প্রশ্ন আছে?
বললাম, মুদির দোকানে সাজানো জিনিশপত্রের মধ্যে কোনটা বাজারি আর কোনটা সিরিয়াস? আপনি হয়তো বলবেন, টুথপেস্ট বাজারি- ডিম সিরিয়াস। আসলে কি তা-ই বলবেন? বাজারে যা আসে সবই বাজারি। বই তো বিক্রির জন্যই আসে মার্কেটে। পৃথিবীতে এমন কোনো সিরিয়াস বই আপনি দেখেছেন যা কিনতে পাওয়া যায় না। এমন কোনো বই আছে যাতে দাম লেখা থাকে না?
বলে যাও।
আমরা একটা মার্কেট সিস্টেমের মধ্যে আছি। এই মার্কেট সিস্টেমে যা আমরা বিক্রি করি আর যা কিনি- সবই বাজারি। কোনো জিনিশ বেশি বিক্রি হলেই সেটি বাজারি আর কোনো জিনিশ কম বা বিক্রি না হলেই তাকে সিরিয়াস বলবো কেন? তাই আমাদের প্রথমেই একমত হতে হবে যে, সকল সাহিত্যই বাজারি। একমাত্র দুপুর মিত্রের সাহিত্যই বাজার ব্যবস্থার বাইরে।
দুপুর মিত্র কে?