Sunday, September 2, 2012

সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক... মুক্তমতের টুটি চেপে ধরার আয়োজন কতদূর?

by Mahbub Morshed on Tuesday, January 3, 2012 at 9:08pm

কিছু ঘটনা আপনাদের মনে থাকার কথা। তারপরও একে একে মনে করিয়ে দিতে চাই।
১. ৩ ডিসেম্বর ২০১১।
“নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করুন।”
বললেন, এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
ব্লগে পর্ন চর্চার অভিযোগ আনেন তিনি। যে অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন সেখানে উপস্থিত বিডি নিউজের একজন মুখপত্র বলেন, “আমাদের ব্লগ ও মতামত বিভাগের মন্তব্যে মডারেশন ছাড়া একটি শব্দও প্রকাশ করা হয় না।”
পুরো সংবাদের লিংক
২. ৬ ডিসেম্বর ২০১১।
ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রী কপিল সিবাল অনলাইনে আপত্তিকর, সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রচারের দায়ে ফেসবুক ও টুইটার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন।
এ বিষয়ে একটি খবর

ব্লগের মডারেটররা কেন ব্লগের নিয়ন্ত্রণ চান?

by Mahbub Morshed on Thursday, January 12, 2012 at 9:27pm
৩ জানুয়ারি আমি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক... মুক্তমতের টুটি চেপে ধরার আয়োজন কতদূর? শিরোনামে। পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন, জীবনানন্দের ছায়া। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ব্লগ দিবসে বিভিন্ন ব্লগের মডারেটর ও ব্লগ বিশেষজ্ঞরা প্রথম আলোয় যে লেখাটি লিখেছিলেন তাতে 'কিভাবে ব্লগে মুক্তমতের কন্ঠরোধের' বিষয়টি এসেছে। সে প্রশ্নে আসা যাবে, তার আগে কিছু কথা বলে নেই।
সত্যিকার অর্থে ১৯ ডিসেম্বর ব্লগ দিবসের যে প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছিল তা আমার জন্য খুব কনফিউজিং ছিল। খেয়াল করুন, ব্লগ দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছিল, 'গণজাগরণে সোশাল মিডিয়া ও সাইবার আইন'। আমরা সকলেই জানি, গণজাগরণে সোশাল মিডিয়ার ভূমিকা আছে। আরব দেশগুলোর আন্দোলনে সোশাল মিডিয়া কিভাবে কাজ করেছে তা আমাদের সকলের জানা। শুধু আরব দেশগুলোই নয়, অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট মুভমেন্টে সোশাল মিডিয়ার ভূমিকার কথাও আমরা জানি। ভারতে আন্না হাজারের আন্দোলনেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

দাঙ্গায়, দাঙ্গার আগে ও পরে নিরবতা কি আসলেই সমাধান দেয়?

by Mahbub Morshed on Sunday, February 12, 2012 at 8:59pm
শুক্রবার (১০/২/২০১২) বিকাল চারটায় আমাকে ফোন দেন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য। ঘটনাচক্রে তিনি আমার পরিচিত।
বললেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটতেছে কিন্তু আপনারা নিউজ করতেছেন না কেন?
আমি বললাম, কিছু তো জানি না। কী ঘটছে?
উনি বললেন, হাটহাজারি রণক্ষেত্র। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে। কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। ভাই বিডিআর (বিজিবি) নামানো লাগবে। নিউজ না হলে তো বিডিআর নামবে না।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কত মানুষ?

Saturday, September 1, 2012

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শেখ মুজিবুর রহমান ও তৈমুর রেজা


গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ একটা রুল জারি করে। রুলটা অবশ্যই বহুল আলোচিত এবং ভাষা নিয়া। ওই দিন প্রথম আলোতে প্রকাশিত সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একটা লেখার সূত্রে আদালতের এই রুল। মজার ব্যাপার হইলো, আমরা হাইকোর্টের রুলটা নিয়া অনেক কথা কইছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। কিন্তু রুল যে লেখাটার সূত্রে সেইটা নিয়া তেমন একটা কথা হয় নাই। অবশ্য, হাইকোর্টের রুলটা মর্মভেদী ছিল। সৈয়দ মনজুরুলের লেখাটা আর বিশেষ পাত্তা পায় নাই। লেখার শিরোনাম ‘ভাষাদূষণ নদীদূষণের মতোই বিধ্বংসী’। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুর, এই পরিচয়টা আমরা জানি। এও জানি তিনি একজন কথাসাহিত্যিক। বিদ্যা ও অনুভব এই দুই জিনিসের কমতি তার মধ্যে থাকার কথা না। কিন্তু লেখাটা পইড়া মনে হইছিল, হয় এই দুইটা জিনিশের কমতি পড়ছে তার। নয়তো, বর্ণবাদ ও কর্তৃত্ববাদের ভীমরতির শিকার হয়ে পড়ছেন। সৈয়দ মনজুরের লেখার পরতে পরতে যে কেউ কর্তৃত্ববাদী ও বর্ণবাদী প্রসঙ্গ খুঁজে পাবেন। কিন্তু একটু কষ্ট হবে, কেননা যথেষ্ট সাবধানতা সহকারে, সুকৌশলে তিনি এই বর্ণবাদের বিস্তার তার লেখায় ঘটাইছেন। আমার মতো আম জনতার জন্য তার লেখার শিরোনামটাই কাফি।

মানী লোকের মান রক্ষায় ব্রাত্য রাইসুর আন্দোলন


২৩ মার্চ প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত আবদুশ শাকুরের 'মুক্তির গান' প্রবন্ধটার কিছু ভাষ্য আমার কাছে গুরুতর আপত্তিকর মনে হওয়ার ফেসবুকে আমি স্টেটাস দিয়া প্রতিবাদ করছিলাম। স্টেটাসটা নিম্নরূপ :
"আজকের প্রথম আলোতে আবদুশ শাকুরের লেখা পইড়া মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। ভদ্রলোক লিখছেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নিরস্ত্র বাঙালির প্রধান অস্ত্র ছিল সংস্কৃতি, যে সংস্কৃতির প্রধান অংশ ছিল ভাষা, যার মুখ্য অঙ্গ ছিল গান—বাঙালির মুক্তির গান।" এইটা কী? এই কথা কি রূপক হিসাবে বলা হইলো? এইসব অদ্ভূত বুদ্ধিজীবীর মতে, মুক্তিযোদ্ধারা গান গেয়ে গেয়ে দেশ স্বাধীন করছে। কয়দিন পর হয়তো এনারা লেখা শুরু করবেন, গানের মধ্যে দোয়াদরুদ, তন্ত্র-মন্ত্র দেওয়া থাকতো। পাকিস্তানীরা ওই গানেই কুপোকাত হয়ে গেছে। নয়মাস ধরে গান গাওয়ার পর দেশ স্বাধীন হইছে।'

স্টেটাসের প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই আমার মন্তব্যের সঙ্গে আংশিক বা পূর্ণ সহমত প্রকাশ করছিলেন। যারা আংশিক সহমত ব্যক্ত করছিলেন তাদের মনে হইছিল দোয়া-দরুদ, তন্ত্রমন্ত্রের কথা আমি নাও বলতে পারতাম। মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রধানত গান গেয়ে দেশ স্বাধীন করে নাই, অস্ত্র নিয়াই যুদ্ধ করছে এইটা বলাই যথেষ্ট ছিল। সঙ্গে হয়তো আমিও এও বলতে পারতাম যে, গানের অবদান তখন ছিল- সেইটা ছিল অনুপ্রেরণার। স্বাধীনতাসংগ্রামে বাঙালি নিরস্ত্র আছিল না, যারা নিরস্ত্র আছিল মানে সশস্ত্র যুদ্ধে যায় নাই তাদের প্রধান অস্ত্র গান হইলে আমার আপত্তি নাই। তবে সংগ্রামে যারা হাজির ছিল, ইতিহাস বলে তারা সশস্ত্রই আছিল। ফলে আবদুশ শাকুরের প্রধান প্রস্তাবনাটিই

সাহিত্য সম্পাদকদের পছন্দ, সাহিত্য সম্পাদকদের অপছন্দ


যে সাহিত্য সম্পাদক তার অপছন্দের লেখা ছাপান তিনি আদৌ সাহিত্য সম্পাদকই নন। / ব্রারা ৮.৭.২০১২
ব্রাত্য রাইসুর এই স্টেটাস আজ রাজীব নূর মারফত পাইলাম।

ব্রাত্য রাইসুর উক্তিটা মজার। পৃথিবীতে নাই কোনো বিশুদ্ধ সাহিত্য সম্পাদক। কারণ প্রত্যেক সাহিত্য সম্পাদককেই তার অপছন্দের লেখা ছাপতে হয়।

প্রশ্ন করি, সাহিত্য সম্পাদকের পছন্দ-অপছন্দ দিয়া দৈনিকের সাহিত্য পাতা চলবে কেন? সাহিত্য সম্পাদক একটা দৈনিকের কর্মকর্তা, সাংবাদিক। চাকরিজীবী। সাহিত্য বিষয়ে দৈনিকের একটা সম্পাদকীয় নীতি থাকে সেই নীতি অবলম্বন কইরা সাহিত্য-সম্পাদককে কাজ করতে হয়। এইখানে ব্রাত্য রাইসু, জাফর আহমেদ রাশেদ বা আলীম আজিজের সাহিত্য রুচি কোনো বিষয়? চাকরি করবেন, বেতন নিবেন আবার নিজের পছন্দ-অপছন্দ ফলাইবেন এইটা কেমন কথা? নিজের পছন্দ অনুযায়ী লেখা ছাপতে হইলে নিজে পত্রিকা বাইর করা উচিত।

গুড বাই, মায়েস্ত্রো


হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে একবারই দেখা হয়েছিল আমার। দেখা বলতে- সামনা-সামনি হওয়া। চাইলে কথা বলা যায় এমন দূরত্বে আসা। ২০১২ সালের মে মাসে হুমায়ূন শেষ বারের মতো দেশে এসেছেন। সবাই বলছে, বাঁচার আশা নাই তো, মায়ের সাথে শেষ দেখা করতে এসেছেন। ইতিমধ্যে স্লোয়ান-কেটরিং হাসপাতালে কেমো নিয়েছেন। আরোগ্য হয়নি, অপারেশন করতে হবে। দেশে ফিরে লোকজনের সান্নিধ্যে যেতে নিষেধ করেছিলেন ডাক্তাররা। কিন্তু এবার দেশে ঘটনাবহুল সময় পার করলেন তিনি। দেয়াল, আইন-আদালত, হৈ-হল্লা কম হলো না। ষোলকলা পূর্ণ হলো তার শেষ সিনেমা ঘেটুপুত্র কমলার প্রি-প্রেস শোর মধ্য দিয়ে। এই শোর দুইদিন পর তিনি চলে গিয়েছিলেন। ২৯ মে ছিল শো। অফিস থেকে বলা হলো, শো-টা আমাকে কভার করতে হবে। বসুন্ধরা সিটির সিনেপ্লেক্সে শো। মঙ্গলবার, মার্কেট বন্ধ। পুরো মার্কেট স্তব্ধ, শুধু আট তলায় গুঞ্জন। হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ট সার্কেলের পুরোটাই উপস্থিত। দেখলাম, বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীরা সিনেপ্লেক্সের বাইরে গোল আসনে ঘিরে রেখেছেন তাকে। একটু এগিয়ে গেলাম, থমমতো খেয়ে আবার দূরে চলে এলাম। কী বলবো? পরিচিত হয়েই বা কী করবো?

Friday, August 3, 2012

জনপ্রিয় সাহিত্য, বাজারি সাহিত্য, সিরিয়াস সাহিত্য

ফোন ভাইব্রেশন মোডে রাখা। মধ্যরাতে বন্ধু ফোন দিয়েছিলেন, টের পাইনি। দেখলাম রাত একটায়। জরুরি কোনো ব্যাপার মনে করে কলব্যাক করলাম। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা। আমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তার, আমার লেখালেখির প্রতি পক্ষপাতও কখনো লুকিয়েছেন বলে শুনিনি। পরিচয়ের শুরুর দিকে নিজের সংগ্রহ থেকে অমিয়ভূষণ মজুমদারের ৬/৭টি বই দিয়েছিলেন আমাকে। ফোন ধরেই বললেন, তোমাকে কঠিন কিছু কথা বলবো, মন দিয়ে শুনবে।
বলেন।
তুমি কী চাচ্ছ বলো তো? বাজারি সাহিত্যের প্রতি তোমার এই পক্ষপাত কেন?
বন্ধু হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমার ‌'গুডবাই, মায়েস্ত্রো'নোটটি পড়েছেন। কিছুটা বিরক্ত, কিন্তু পছন্দ করেন বলে আমার কাছেই বিহিত চাইছেন। বললেন,
সাহিত্য দুই প্রকার। বাজারি সাহিত্য ও সিরিয়াস সাহিত্য। এই বিভাজনটা নিয়ে তোমার কোনো প্রশ্ন আছে?
বললাম, মুদির দোকানে সাজানো জিনিশপত্রের মধ্যে কোনটা বাজারি আর কোনটা সিরিয়াস? আপনি হয়তো বলবেন, টুথপেস্ট বাজারি- ডিম সিরিয়াস। আসলে কি তা-ই বলবেন? বাজারে যা আসে সবই বাজারি। বই তো বিক্রির জন্যই আসে মার্কেটে। পৃথিবীতে এমন কোনো সিরিয়াস বই আপনি দেখেছেন যা কিনতে পাওয়া যায় না। এমন কোনো বই আছে যাতে দাম লেখা থাকে না?
বলে যাও।
আমরা একটা মার্কেট সিস্টেমের মধ্যে আছি। এই মার্কেট সিস্টেমে যা আমরা বিক্রি করি আর যা কিনি- সবই বাজারি। কোনো জিনিশ বেশি বিক্রি হলেই সেটি বাজারি আর কোনো জিনিশ কম বা বিক্রি না হলেই তাকে সিরিয়াস বলবো কেন? তাই আমাদের প্রথমেই একমত হতে হবে যে, সকল সাহিত্যই বাজারি। একমাত্র দুপুর মিত্রের সাহিত্যই বাজার ব্যবস্থার বাইরে।
দুপুর মিত্র কে?